Header Ads

imran

ওযুর সুন্নত কয়টি

(1) মিসওয়াক করে ওযূ আরম্ভ করা সুন্নাত

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, যদি আমি আমার উম্মতের উপর কঠিন মনে না করতাম, তাহলে প্রত্যেক ওযূর সাথে মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।

বুখারী, ‘ছায়েমের জন্য কাঁচা বা শুকনো মিসওয়াক ব্যবহার করা’ অনুচ্ছেদ, বঙ্গানুবাদ (তাওহীদ পাবলিকেশন্স) ২/৩০৮ পৃঃ।

(2) বিসমিল্লাহ বলে ওযূ আরম্ভ করা সুন্নাত

আৰু হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ছালাত হবে না ওযূ ছাড়া এবং ওযূ হবে না বিসমিল্লাহ বলা ছাড়া।

আবু দাউদ হা/১০১; তিরমিযী হা/২৫; ইবনু মাজাহ হা/৩৯৯; মিশকাত হা/৪০২, বঙ্গানুবাদ (এমদাদিয়া) ২/৮২ পৃঃ। আলবানী, সনদ ছহীহ।

অত্র হাদীছের প্রতি লক্ষ্য করে কিছু সংখ্যক আলেম বলেন যে, বিসমিল্লাহ বলে ওযূ আরম্ভ করা ওয়াজিব। তবে ছহীহ মত হল, বিসমিল্লাহ বলে ওযূ আরম্ভ করা সুন্নাত। 

ছহীহ ফিকহুস সুন্নাহ ১/১২২ পৃঃ।

কেননা যে হাদীছগুলোতে রাসূল (ছাঃ)-এর ওযূর পদ্ধতি বর্ণনা করা হয়েছে তাতে ‘বিসমিল্লাহ’ বলার কথা বলা হয়নি। তাছাড়া ইমাম আহমাদ (রহঃ) বলেন, ‘বিসমিল্লাহ’ বলে ওযূ আরম্ভ করা ওয়াজিব মর্মে ভাল সনদের কোন হাদীছ আমার জানা নেই।

ইবনু কুদামা, আল-মুগনী ১/১৪৫ পৃঃ।

(3) ঘুম থেকে জেগে ওযূ করার পূর্বে দুই হাত কব্জি পর্যন্ত ধৌত করা সুন্নাত

আবু হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে কেউ যখন ওযূ করে তখন সে যেন তার নাক পানি দিয়ে ঝাড়ে। আর যে শৌচকার্য করে সে যেন বেজোড় সংখ্যক ঢিলা ব্যবহার করে। আর তোমাদের কেউ যখন ঘুম থেকে জাগে তখন সে যেন ওযূর পানিতে হাত ঢুকানোর পূর্বে তা ধুয়ে নেয়। কারণ তোমাদের কেউ জানে না যে, ঘুমন্ত অবস্থায় তার হাত কোথায় থাকে।

বুখারী হা/১৬২, ‘বেজোড় সংখ্যক ঢিলা ব্যবহার করা’ অনুচ্ছেদ, বঙ্গানুবাদ (তাওহীদ পাবলিকেশন্স) ১/৯৬ পৃঃ; মুসলিম হা/২৭৮; মিশকাত হা/৩৯১, বঙ্গানুবাদ (এমদাদিয়া) ২/৭৭ পৃঃ।

(4) নাকের ভিতরে পানি প্রবেশ করিয়ে তা ঝেড়ে ফেলা সুন্নাত

তবে ছিয়াম অবস্থায় নাকের এমন গভীরে পানি প্রবেশ করানো যাবে না। যাতে পেটের মধ্যে পানি প্রবেশের সম্ভাবনা থাকে।

আছেম ইবনে লাক্কীত ইবনে ছাবিরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘তোমরা নাসিকায় পানি প্রবেশ করাও। তবে ছিয়াম অবস্থা ছাড়া।

আবু দাউদ হা/২৩৬৬; তিরমিযী হা/৭৮৮; নাসাঈ হা/৮৭; ইবনু মাজাহ হা/৪০৭; আলবানী, সনদ ছহীহ।

(5) ওযূর অঙ্গ সমূহ পানি দিয়ে মর্দন করা সুন্নাত

আব্বাদ ইবনে তামীম তার চাচা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে ওযূ করতে দেখেছি, তিনি তাঁর হাত মর্দন করলেন।

ছহীহ ইবনে হিব্বান হা/১০৮২; মুসতাদরাক হাকেম হা/৫০৯; আরনাউত, সনদ ছহীহ।

(6) দাড়ি খিলাল করা সুন্নাত

দাড়ি দুই প্রকার। ১- পাতলা দাড়ি যার ভিতর দিয়ে চামড়া দেখা যায়। এই দাড়ি ধৌত করা ওয়াজিব। ২- ঘন দাড়ি যার ভিতর দিয়ে চামড়া দেখা যায় না । এই দাড়ি ধৌত করা ওয়াজিব নয়। বরং পানি দিয়ে খিলাল করা সুন্নাত।

আম্মার ইবনে ইয়াসির (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)- কে তাঁর দাড়ি খিলাল করতে দেখেছি।

তিরমিযী হা/২৯; ইবনু মাজাহ হা/৪২৯; আলবানী, সনদ ছহীহ।

অন্য হাদীছে এসেছে,

আনাস ইবনু মালেক (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) যখন ওযূ করতেন তখন হাতের এক অঞ্জলী পানি নিতেন এবং তাঁর চোয়ালের নিচে প্রবেশ করাতেন। অতঃপর তা দ্বারা তাঁর দাড়ি খিলাল করতেন এবং তিনি বলতেন, “আল্লাহ তা’আলা আমাকে অনুরূপ নির্দেশ দিয়েছেন।

আবুদাউদ হা/১৪৫, মিশকাত হা/৪০৮, বঙ্গানুবাদ (এমদাদিয়া) ২/৮৩ পৃঃ; আলবানী, সনদ ছহীহ।

(7) হাত ধোয়ার সময় প্রথমে ডান হাত এবং পা ধোয়ার সময় প্রথমে ডান পা ধৌত করা সুন্নাত

আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ছাঃ) নিজের সমস্ত কাজে যথাসম্ভব ডান দিক হতে আরম্ভ করা পসন্দ করতেন। পবিত্রতা অর্জন, মাথা আচড়ানো এবং জুতা পরার সময়ও।

বুখারী হা/৪২৬, ‘মসজিদে প্রবেশ ও অন্যান্য কাজ ডান দিক হতে আরম্ভ করা’ অনুচ্ছেদ, বঙ্গানুবাদ (তাওহীদ পাবলিকেশন্স) ১/২১৭ পৃঃ; মুসলিম হা/২৬৮; মিশকাত হা/৪০০, বঙ্গানুবাদ (এমদাদিয়া) ২/৮১ পৃঃ।

(8) ওযূর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সমূহ দ্বিতীয় বার ও তৃতীয় বার ধৌত করা সুন্নাত

তবে প্রথম বার ধৌত করা ওয়াজিব।

ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, নবী করীম (ছাঃ) ওযূর অঙ্গ একবার করে ধৌত করেছেন।

বুখারী হা/১৫৭

অন্য হাদীছে এসেছে,

আব্দুল্লাহ ইবনে যায়েদ বলেন, নবী করীম (ছাঃ) ওযূর অঙ্গ দু’বার করে ধৌত করেছেন।

বুখারী হা/১৫৮

অন্য হাদীছে এসেছে,

হুমরান (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি ওছমান ইবনে আফ্ফান (রাঃ)-কে দেখেছেন যে, তিনি পানির পাত্র আনিয়ে উভয় হাতের তালুতে তিনবার ঢেলে তা ধুয়ে নিলেন। অতঃপর ডান হাত পাত্রের মধ্যে ঢুকালেন। তারপর কুলি করলেন ও নাকে পানি দিয়ে নাক পরিষ্কার করলেন। তারপর তাঁর মুখমণ্ডল তিনবার ধৌত করলেন এবং দু’হাত কনুই পর্যন্ত তিনবার ধৌত করলেন। অতঃপর মাথা মাসাহ করলেন। অতঃপর দুই পা টাখনু পর্যন্ত তিনবার ধৌত করলেন। পরে বললেন, আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমার মত এ রকম ওযূ করবে, অতঃপর দু’রাক’আত ছালাত আদায় করবে, যাতে দুনিয়ার কোন খেয়াল করবে না, তার পূর্বের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।

বুখারী হা/১৫৯

অতএব উল্লিখিত দলীল সমূহ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, ওযূতে প্রথমবার ধৌত করা ওয়াজিব এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার ধৌত করা সুন্নাত। তবে মাথা শুধুমাত্র একবার মাসাহ করতে হবে।

(9) ওযু শেষে দো’আ পড়া সুন্নাত

ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘মুসলমানদের যে কেউ ওযূ করবে, সে যেন উত্তমভাবে ওযূ করে। অতঃপর বলে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য মা’বূদ নেই এবং আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (ছাঃ) আল্লাহ্ বান্দা ও তাঁর রাসূল। তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেওয়া হবে। সে যেকোন দরজা দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করতে পারবে।

ওযুর সুন্নত কয়টি

(1) মিসওয়াক করে ওযূ আরম্ভ করা সুন্নাত
(2) বিসমিল্লাহ বলে ওযূ আরম্ভ করা সুন্নাত
(3) ঘুম থেকে জেগে ওযূ করার পূর্বে দুই হাত কব্জি পর্যন্ত ধৌত করা সুন্নাত
(4) নাকের ভিতরে পানি প্রবেশ করিয়ে তা ঝেড়ে ফেলা সুন্নাত
(5) ওযূর অঙ্গ সমূহ পানি দিয়ে মর্দন করা সুন্নাত
(6) দাড়ি খিলাল করা সুন্নাত
(7) হাত ধোয়ার সময় প্রথমে ডান হাত এবং পা ধোয়ার সময় প্রথমে ডান পা ধৌত করা সুন্নাত
(8) ওযূর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সমূহ দ্বিতীয় বার ও তৃতীয় বার ধৌত করা সুন্নাত

হুমরান (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি ওছমান ইবনে আফ্ফান (রাঃ)-কে দেখেছেন যে, তিনি পানির পাত্র আনিয়ে উভয় হাতের তালুতে তিনবার ঢেলে তা ধুয়ে নিলেন। অতঃপর ডান হাত পাত্রের মধ্যে ঢুকালেন। তারপর কুলি করলেন ও নাকে পানি দিয়ে নাক পরিষ্কার করলেন। তারপর তাঁর মুখমণ্ডল তিনবার ধৌত করলেন এবং দু’হাত কনুই পর্যন্ত তিনবার ধৌত করলেন। অতঃপর মাথা মাসাহ করলেন। অতঃপর দুই পা টাখনু পর্যন্ত তিনবার ধৌত করলেন। পরে বললেন, আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমার মত এ রকম ওযূ করবে, অতঃপর দু’রাক’আত ছালাত আদায় করবে, যাতে দুনিয়ার কোন খেয়াল করবে না, তার পূর্বের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।    বুখারী হা/১৫৯









কোন মন্তব্য নেই