মায়ানমারের সেনাপ্রধান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথপ কথন
মায়ানমারের সেনাপ্রধান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথপ কথন
সেনা প্রধানঃ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রি, ২৫ তাং আসলে কী ঘটেছে?
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রিঃ রহিংগারা আমাদের পুলিশ ফাড়িতে আক্রমন করেছে।
সেনা প্রধানঃ আমরাতো আনান কমিশনের ব্যাপারে কাজ
করতে চাচ্ছি, এ সময় এ রকোম একটি আক্রমনের কারন কী ?
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রিঃ আমি বুঝতে পারছিনা ।
সেনা প্রধানঃ আমার মনে হয় দুটি কারন থাকতে পারে। ১।তারা আসলে এদেশের নাগরিকত্ব চায়না স্বাধীনতা চায়.২।অথবা আন্য কনো আন্তর্জাতিক চক্রান্ত আছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রিঃ হতে পারে আপনার দুটো চিন্তাই সঠিক।
সেনা প্রধানঃ তুমি কী মনে কর?
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রিঃ প্রথমতো রহিঙ্গাদের একটা গ্রুর স্বাধীনতা চায় , আর এ
ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক রাজনিতিটা হলো, ভারত আর আমেরিকা ,তারা চীনকে সহ্য করতে
পারছেনা। যেহেতু আমরা চীনের সাথে বানিজ্যে জোর দিয়েছি তাই ভারত এবং আমেরিকা এখানে
খারাপ অবস্থা সৃষ্টি করতে চাইছে।
সেনাপ্রধানঃ গত তিন বছোর আগে আমি যখন চীনের সাথে আরাকানে গ্যাস পাইপ লাইন
স্থাপন ও বানিজ্যিক এলাকা গঠন নিয়ে কথা বলেছিলাম ,তখোন চীনের প্রধান মন্ত্রি আমাকে
এ ব্যাপারে সতর্ক করেছিলেন ,
তিনি বলেছিলেন , রহিঙ্গারা স্বাধীনতার প্রশ্নে আন্তর্জাতিক চক্রান্তের ফাদে পা
দিতে পারে। আর তিনি জানতে চেয়েছিলেন , তখন আমরা কী করতে পারব? আমি তাকে আশ্বস্ত
করে ছিলাম , যেকোন ভাবে শান্তি বজায় রাখতে আমাদের সেনা বাহিনী প্রস্তুত।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রিঃ দেখুন গতবছর বানিজ্য মন্ত্রি আমাকে এ ব্যাপারে সতর্ক
করেছিলেন ,তিনি বলেছিলেন , ভারত ও চীন উভয় রাষ্ট্রের সাথে এ এলাকয় ব্যাবসা বানিজ্য
নিয়ে কাজ করাটা বিপদ জনক , কারন উভয় একে অপরের প্রতিদন্দি। তাই চুড়ান্ত মুহূর্তে
যেকন এক পক্ষকে বেছে নেয়ার ব্যাপারে প্রস্তুত থাকতে।
সেনা প্রধানঃ এখন আমাদের কী করা উচিৎ?
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রিঃ দেখুন এলাকাটি বানিজ্যিক ভাবে অত্যন্ত স্পর্শ কাতর । তাই
সবার আগে পরিস্থিতি শান্ত করার কথা ভাবতে হবে।
সেনা প্রধানঃ ঠিক বলেছো। তবে রহিঙ্গাদের সাথে
আলচোনা ভেস্তে যাবে, আর এ ব্যাপারে আমরা আন্তর্জাতিক সমর্থন হারাবো।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রিঃ দেখুন কিছু কিছু সময় অন্যায় আপনার পক্ষে থাকবে । আর এটা
এমন একটা সময়। মিলিটারি অপারেশন চালান , রহিঙ্গারা বাংলাদেশে ঢুকে যাক , এলাকা
শান্ত হয়ে যাবে । এর পর আলোচোনার সুজোগ পাবেন ।
সেনা প্রধানঃ রহিঙ্গাদের আক্রমন যদি ভারত আর আরিকার চক্রান্তের ফসল হয়। তাহলে কী ঘটতে পারে?
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রিঃ দেখুন ভারত তাদের আশ্রয় দিবেনা কারন তাদের সাথে আমাদের
বানিজ্য আছে ,তাছাড়া তারা হিন্দু। কিন্তু বাংলাদেশ আশ্রয় দিবে , আর আরাকান এলাকা
মুসলিম শূন্য হলে পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রনে এসে যাবে।
সেনাপ্রধাঃ সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাথে কন খারাপ অবস্থার জন্যে প্রস্তুত থাকার
প্রয়োজন আছে কি না ?
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রিঃ দেখুন বাংলাদেশ আমাদের জন্যে একটি চমৎকার অবস্থায়
আছে। তাদের অভ্যন্তরিন রাজনীতি এখন খুবই
দুর্বল , দেশটি এখন একটি মাত্র দলের হাতে নাস্ত , আর মজার ব্যাপার হলো তারা টিকে
আছে ভারতের বলে। তাই ভারতের জন্যে বাংলাদেশের সমর্থন নিয়ে কোন চিন্তার কারন নেই , তাই নিশিত ভাবে বলা যায় ভারত আমাদের
সমর্থন করবে।
সেনাপ্রধানঃ কিন্তু এ চক্রন্তে ভারত আর আমেরিকা যুক্ত থাকার সম্ভাবনাতো আছে।
তারা যদি বাংলাদেশকে সমর্থন করে!
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রিঃ দেখুন ভারত বাংলাদেশের সমর্থনের ব্যাপারে চিন্তা মুক্ত।
তারা বাহ্যিক ভাবে আমাদেরই সমর্থন করবে । তবে তারা অভ্যন্তরিন ভাবে বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করবে। এটা হতে পারে আমেরিকা
ও ইউরোপিয় ইউনিয়ন ভারতের মাধ্যমে রহিঙ্গাদের অস্ত্র দিতে চাইবে তবে তার আগে চিন্তার বিষয় সুচি, তাদের প্রথোম
উদ্দ্যেশ্য হতে পারে পরিবেশ ঘোলা করে সুচিকে রাজনৈতিক ভাবে শক্তিশালী করা। এবং
মায়ানমারকে চীনের প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্র বানানো । সেটা যদি হয়, মায়ানমারের জাতীয়
ক্ষতি হবে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন ব্যাহত হবে, মায়ানমার ভারত – আমেরিকা বনাম চীনের
যুদ্ধক্ষেত্রে পরিনত হবে।তাই সুচির দিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে, কারন সে আমেরিকা
পন্থি।
আর দ্বিতীয়টি হলো , ভারত চাইবেনা জঙ্গিরা ভারতে আশ্রয় নিয়ে মায়ানমারের
বিরুদ্ধে যুদ্ধ করুক কারন এমনিতেই তারা ৭ সিস্টার নিয়ে টেনশনে আছে। তার উপর ভারতের
এই অঞ্চল উত্তপ্ত হলে আমরা চীনের সহযোগীতা পাবে , আর ভারত তার এই অঞ্চল হারাতে
পারে ।
তাই ভারত –আমেরিকা চাইবে এ ব্যাপারে বাংলাদেশ কে রাজি করাতে। আশাকরা যায় এ
ব্যাপারে বাংলাদেশ রাজি হবেনা ।
সেনাপ্রধানঃ দেখুন ক্ষমতায় টিকে থাকার স্বার্থে বর্তমান সরকার রাজি হতে পারে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রিঃ ঠিক বলেছেন।
অবস্থা এমন হলে।ভারতের লাভ হবে । বাংলাদেশের সাথে আমাদের সিমান্ত অবস্থা খারাপ হবে
।দুদেশের আভ্যন্তরেই জঙ্গি তৎপরতা বেড়ে যাবে। ভারত বাংলাদেশের জঙ্গিততপরতা বন্ধের
নামে সেনা সহজগীতার প্রস্তাব দিবে এবং বাংলাদেশের ভেতরদিয়ে তারা তাদের পূর্বের
রাজ্যগুলোকে নিরাপত্তার ব্যাবস্থা করতে পারবে। আবার মায়ানমারের সাথও তাদের ভাল
সম্পর্ক থাকবে বলে তারা আশা করবে।
সেনাপ্রধানঃ ঠিক বলেছো। বাংলাদেশ ও মায়ানমারে জঙ্গি ততপরতা বাড়াতে পারলে
ভারতের লাভ। প্রথমত তারা বাংলাদেশের সাথে সামরিক সহযোগীতার নামে ৭ সিস্টারে সামরিক
যোগাযোগ বৃদ্ধি করতে পারবে। আবার মায়ানমারে জঙ্গি অবস্থা থাকলে এ অঞ্চলে চীনের
বানিজ্য ও সামরিক ততপরতা ব্যাহত করা সম্ভব হবে বলে ভারত মনে করে। এ অবস্থায় আমাদের
রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্যে আমরা কি করতে পারি?
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রিঃ দেখুন বাংলাদেশের অবস্থা যাই হোক আমাদের দেশের অবস্থা ভাল হবে , প্রথমত ,সুচির মাধ্যমে আমেরিকা –ভারত
যে চক্রান্ত করছে তাতে রাজনৈতিক ভাবে আমরাই শক্তিশালী হব। দ্বিতীয়ত , আমরা চীন
রাশিয়ার সহযোগীতায় এ অঞ্চলে সামরিক ও অর্থনীতিক ভাবে শক্তিশালী হব । তৃতীয়ত , ভারত
-আমেরিকা চীনের সাথে শ্ত্রুতার কারণেই আমাদের দেশে প্রভাব বিস্তার করতে চাইবে , এ
ক্ষেত্রে তারা রহিঙ্গাদের জঙ্গি ততপ্রতায় ব্যাবহার করবে । তাই আমার মতে রহিঙ্গাদের
দেশের মধ্যে থেকে জঙ্গি ততপরতা চালানর সুযগ বন্ধ করার জন্যে তাদের দেশ থেকে বহিস্কার করা প্রয়োজন ।
সেনাপ্রধানঃ সেটাই ভাল , তারা যদি বাংলাদেশ থেকে জঙ্গি ততপরতা চালায় সেটা বরং
মোকাবেলা সহজ হবে।
তাহলে আপনি কাজ শুরু করুন।

Post a Comment