Header Ads

imran

iraq

crime of america in iraq
                                               crime of america in iraq

ডিলার্ড জনসন

ইরাকে মার্কিন সেনাদের পৈশাচিক গণহত্যা ও বর্বরতায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে অবসরপ্রাপ্ত এক মার্কিন সেনা বলেছে, সে একাই পাঁচ বছরে আরব এই মুসলিম দেশের দুই হাজার ৭৪৬ নাগরিককে হত্যা করেছে এবং এইসব পাশবিক হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে সে গর্ব অনুভব করেছে।
ডিলার্ড জনসন নামের ৪৮ বছর বয়স্ক এই মার্কিন সেনা ২০০৫ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত এইসব হত্যাকাণ্ড চালায় এবং এ জন্য সে কোনো অনুশোচনা না করে গর্ব অনুভব করার কথা জানিয়েছে।
মার্কিন ইতিহাসের ‘সবচেয়ে নির্দয় বা পাষাণ সেনা’ হিসেবে কুখ্যাত এই জল্লাদ ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে পৈশাচিক উল্লাস প্রকাশ করে বলেছে, ১৩ বছর বয়সে হরিণ শিকার করে যে আনন্দ পেয়েছি এতো বিপুল সংখ্যক ইরাকিকে হত্যা করে তার চেয়েও বেশি আনন্দ উপভোগ করেছি! (২০১৩ সালের জুন মাসের শেষের দিকে তার এই স্মৃতি-কথা প্রকাশ হলে এ নিয়ে কোনো কোনো মহলে ব্যাপক নিন্দা ও প্রতিবাদ ওঠে)
ইরাকে তার প্রথম হত্যাকাণ্ডের স্মৃতিচারণ করে জনসন জানায়, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে আসসামাভে শহরের কাছে একটি বাসের ওপর সাঁজোয়া যান চাপিয়ে দিয়ে গণহত্যা শুরু করেছিল সে। ওই হত্যাযজ্ঞে নিহত হয়েছিল ১৩ জন নিরপরাধ বেসামরিক ইরাকি।
মার্কিন এই নরঘাতক গর্ব প্রকাশ করে আরো বলেছে, ইরাকে অবস্থানের সময় এমন কোনো দিন ছিল না যে কোনো একজন বা দু’জন ইরাকিকে হত্যা করিনি। অবসর গ্রহণের পর এই ঘাতক সেনাকে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে ‘যুদ্ধের বীর’ বলে অভিহিত করে খেতাব ও ৩৭টি মেডেল দেয়া হয়।
জনসন নানা ধরনের মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়েছে এবং তার স্ত্রীও তাকে তালাক দিয়েছে।
ইরাকে মার্কিন হামলা ও দখলদারিত্বের সময় প্রায় ১৫ লাখ ইরাকি দখলদার মার্কিন সেনাদের হাতে নিহত হয়েছেন। এ ছাড়াও ২০০৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত কয়েক লাখ ইরাকি আহত ও পঙ্গু হয়েছে মার্কিন সেনাদের হাতে।
ইরাকে মার্কিন আগ্রাসনের জন্য মার্কিন নাগরিকদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল ছয় ট্রিলিয়ন ডলারের বোঝা। বিচারের মুখোমুখি হওয়ার ভয়-ভীতি ছাড়াই ইরাকে মোতায়েন দখলদার মার্কিন সেনারা সব ধরনের নৃশংসতা ও পাশবিকতার আশ্রয় নিয়েছে। ইরাক ও আফগানিস্তানে নানা পাশবিক অপরাধে জড়িত অনেকে মার্কিন সেনাকে বীরত্বের পদকও দেয়া হয়েছে দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে! এ অঞ্চলে মার্কিন সেনাদের অপরাধযজ্ঞ সম্পর্কে বহু গণমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিন নানা প্রামাণ্য প্রতিবেদন ফাঁস হওয়ার পরও মানবাধিকার সংস্থাগুলো কোনো কার্যকর প্রতিক্রিয়া দেখায়নি।

কোন মন্তব্য নেই