রোজা কেন ফরজ?
রোজা কেন ফরজ?
বিষয়টা আমারা ব্যাখ্যা করবো ইসলামি শরীয়তের দৃষ্টি কোন থেকে এবং বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে।
আমরা জানি রোযার অনেক রহমত ও বারকত রোয়েছে, রোয়েছে ক্ষমা ও জান্নাত প্রাপ্তির নিশ্চয়তা,
এ গুলো আমরা জানি, যেমন হাদীস এসেছে,
= *= *= হাদিস,হযরত আবুহুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত , ইজা দাখালা রামাদানা ফুতিহাত আবয়াবাস সামাউ, ওয়া গুল্লিকাত আবওয়াবাস জাহান্নাম, ওয়া সিলসিলাতিস সয়াতিন,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رضى الله عنه - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِذَا جَاءَ رَمَضَانُ فُتِّحَتْ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ النَّارِ وَصُفِّدَتِ الشَّيَاطِينُ
- যখোন রামাদান প্রবেশ করে আসমানের দরোজা খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরোজা বন্ধ দেওয়া হয়, আর শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়।
এ গুলো করা হয় আমরা যেন নির্বিঘ্নে ইবাদাত করতে পারি,
=* =* = এ ছাড়াও হাদীসে এসেছে , , রাসুলেকারিম (সাঃ) বলেন, ``মান সামা রামাদানা ইমানাও ওয়া ইহতিসাবা গুফিরালাহুমা তাকাদ্দামা মিন যানবিও’’
- যে ব্যাক্তি রমযান মাসে রোযা রাখবে ইমান ও সাওয়াবের আসায় তার পূর্ববর্তী সকোল গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।
=*=*= হাদীস এসেছে, সাহল (রাঃ) হতে বর্ণিত , রাসুলে কারিম (সাঃ) হতে বর্ণিত ,জান্নাতের ৮ টি দরজা রয়েছে, তার মদ্ধে একটি দরজার নাম রায়ান, যে দরযা থেকে রোজাদার দের আহবান করা হবে জান্নাতে প্রবেশের জন্যে।عَنْ سَهْلٍ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِنَّ فِي الْجَنَّةِ بَابًا يُقَالُ لَهُ الرَّيَّانُ يَدْخُلُ مِنْهُ الصَّائِمُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لاَ يَدْخُلُ مِنْهُ أَحَدٌ غَيْرُهُمْ يُقَالُ أَيْنَ الصَّائِمُونَ فَيَقُومُونَ لاَ يَدْخُلُ مِنْهُ أَحَدٌ غَيْرُهُمْ فَإِذَا دَخَلُوا أُغْلِقَ فَلَمْ يَدْخُلْ مِنْهُ أَحَدٌ
অর্থাৎ জান্নাতে ঢোকার জন্যে আমাদের জন্যে একটি দরজা নিরধারিত থাকছে,
কোন কারনে অন্য দরজা গুলো বন্ধ থাকলেও আমরা রায়্যান নামক দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারব।
তবে রমজান মাসে রহমাত,বরকত আর ক্ষমা পাওয়ার পাশাপাশি জান্নাতের একটি দরজা নির্ধারিত থাকলেও
প্রশ্ন হলো,আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কী এ জন্ন্যেই রোযাকে ফরজ করেছেন?
উত্তর হলো, না।আমারা যেটা পাব সেটা রমজানের ফজিলত, আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের ক্ষমা প্রাপ্তি,এমনকি জান্নাত প্রাপ্তির চেয়েও গুরুত্ব পূর্ণ উদ্দেশ্যে আল্লা আমাদের উপর রোজা ফরজ করেছেন,
এরশাদ হয়েছে, পবিত্র করানের সুরা বাকারা ১৮৩ নং আয়াত,
‘’কুতিবা আলাইকুমুস সালামা কামা কুতিবা আলাল্লাযীনা মিনকাবলিকুম লায়াল্লাকুম তাত্তাকুন’’
- - তোমাদের উপর রোজা ফরোজ করা হয়েছে যেমন ফরোজ করা হয়েছেল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর ফরজ করা হয়েছিল,যেন তোমরা মুত্তাকি হতে পার।
অর্থাৎ আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের উপর রোজা ফরজ করেছেন যেন আমরা মুত্তাকি হতে পারি ,অর্থাৎ মুত্তাকী হওটা আল্লারাব্বুল আলামিনের ক্ষমা আর জান্নাত প্রাপ্তির চেও গুরুত্ব পূর্ণ,
এখন বোঝা দরকার কি সেই মুত্তাকি যার এত গুরুত্ব ,তার মর্যাদা পূর্ণ অবস্থাটা কী?
আমরা জানি একজন ব্যাক্তি যখন আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের উপর ইমান আনে তখন তার ৪ টি অবস্থা সৃষ্টি হয়।
১।যখন সে কালেমায় শাহাদা পাঠ করে তখন তাকে বলা হয় মুমিন,
এ ক্ষেত্রে তাকে ৬ টি বিষয়ের উপর ঈমান আনতে হয়। আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের উপর ,রাসুলে কারীম (সাঃ) এর উপর, পূর্ব বর্তি নবী রাসুলের উপর আসমানি কিতাব,ফেরেস্তা আর জান্নাত ,জাহান্নামের উপর।
২।এর উপরের স্তর হল মুসলিম , যখন সে ইসলামের মৌলিক বিষয় গুলো বিশ্বাস করার পাশাপাশি ইবাদাত গুলোও পালন করা শুরু করে ,তখন তাকে বলা হয় মুসলিম ,এ ক্ষেত্রে তাকে ৫ টি কাজ করতে হবে,
হাদীস হজরত ওমার (রাঃ) থেকে বর্ণীত ,রাসুলে কারিম (সাঃ)বলেছেন ,
=*=*= ‘’ বুনিয়াল ইসলাম আলা খামছিন, শাহাদাতু আল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ,ইকামুস সালাত অয়া ইতাউজ্জাকাত,ওয়াসসাওমু রমাদান,ওয়াল হাজ্জুল বায়ত,
অর্থাৎ practicing mu’min
এব্যাপারে মহা গ্রন্থ আলকোরানে বর্ণিত হয়েছে,
*=*=*=‘’ কুল লাম তু’মিন ওয়ালা কিং কুলু আসলামনা’’
আর এ কথাটি বলা হয়েছিল আরবের এক বেদুইন গত্রকে , একবার আরবে দুর্ভিক্ষ দেখা দিল , আর খাবারের জন্যে একদল আরব বেদুইন রাসুলেকারীম (সাঃ) এর কাছে আসলেন, আর বল্লেন , হে রাসুল (সাঃ) আমরা আল্লাহর প্রতি ইমান এনেছি , আমাদের কিছু খাবার দিন , উত্তরে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এই আয়াত নাযিল করেন, চিন্তা করুন কথাটি রাসুল (সাঃ) এর না , সরাসরী আল্লাহর বানী, আল্লাহ বলছেন যে তোমরা বলনা আমরা মু’মিন হয়েছি বরং বল, আমরা মুসলিম হয়েছি , তাই বোঝা যায় একজন ব্যাক্তির মুমিন হওয়াটা তার পরকালীন জীবনে মুক্তি পাওয়ার জন্যে যথেষ্ট নাও হতে পারে।
তাই আমাদেরকে মৌখিক বিশ্বাসের পাশাপাশি ইসলামের মৌলিক কাজ গুলো করতে হবে,
তবে আমরা যে কাজ গুলো করবো তা সঠিক হতে হবে, আর ভালো নাম্বার পাওয়ার জন্যে কাজগুলো সুন্দর হওয়া ও আবশ্যক , আর আমরা যখন ইসলামের মৌলিক ইবাদাত গুলো করার পাশাপাশি এ কাজ গুলো সুন্দর করার চেষ্টা করব, তখন তাকে বলাহয় মহসিন,
৩।এটা মু’মিনের তৃতীয় স্তর , এব্যাপারে হাদীস এসেছে, হাদীসে জিবরাইল , ‘’ একদিন জিবরাইল (আঃ) রাসুলে কারীম (সাঃ) এর কাছে আসলেন, আর রাসুল(সাঃ) মসজিদে নববীতে বসে ছিলেন ,তিনি আসলেন মানুষের বেশে ,কেউ তাকে চিনতে পারলোনা ,তিনি রাসুলেকারীম (সাঃ)এর কাছে বসলেন আর কয়েকটি প্রশ্ন করলেন , তার মধ্যে একটা প্রশ্ন ছিল এরকম, অমাল ইহসান ? অর্থাৎ ইহসান কি? রাসুল (সাঃ) বললেন , তুমি এমন ভাবে ইবাদত করবে যেন তুমি আল্লাহকে দেখছো, (অর্থাৎ মানুষ আল্লাহকে দেখলে কেমন ভয় পাবে তেমন ভয় পেতে হবে, ক্রন্দন রত অবস্থায় থাকবে আর ক্ষমা প্রার্থনা করবে,) তুমি যদি তাকে দেখতে না পাও (অর্থাৎ তোমার এমন অনুভব না হয় ) তবে এ বিশ্বাস রাখবে তিনি তোমাকে দেখছেন।
আর বান্দা যদি একথা অনুভব কোরতে পারে যে তার সামনে আল্লাহ আছে তবে তার ইবাদাতটা হবে অনেক সুন্দর , নিখুঁত । আর এমন ইবাদাতকে বলাহয় ইহসান ,আর এমন ইবাদাত কারীকে বলাহয় মুহসিন,
৪।আর মু’মিনের চতুর্থ স্তর হল, মুত্তাকি, এ স্তরে তাকে আর বেশী সতর্ক হতে হবে, তাকে সকল ভাল কাজ করার পাশাপাশী সকল মন্দ কাজ পরিহার করতে হবে, এমনকি তাকে এমন মন্দকাজ পরিহার করতে হবে যা আসলে মন্দকাজ নয় ,
যেমন, এক জায়গায় একটা গানবাজনার অনুষ্ঠান হছে, এর পাশদিয়েই রয়েছে একটা রাস্তা ,ঐ রাস্তা দিয়ে আপ্নে কোথাও যাবেন , বিকল্প পথ থাকলে আপনি ঐ পথদিয়ে যেথে পারবেননা ।কারন ঐ পথদেয়ে যাওয়ার সময় আপনি একবার তাকেতে পারেন অথবা বসে পরতে পারেন , তাই আপনি যদি মুত্তাকি হন তবে পাপের নিকটবর্তি হবেননা , এটা মুত্তাকিন দের জন্যে নিশিধ ,
আর এই স্তরে ওঠা খুব কঠিন কারন সকল সন্দেহ জনক কাজ থেকে দূরে থাকতে হয়।দুরে থাকতে হয় ঐ সমস্ত কাজ থেকে যা অপতাধ নয় তবে জ্ঞানী ব্যাক্তির নিকট কাজটি শোভনীয় নয়।
যেমন , হাদীস, হযরত আবুহুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণীত, রাসুলে কারীম (সাঃ) বলেন, ‘’মান লাম ইয়াদা কাওলাজ ঝুর অয়াল আমালা বিহি ফালাইসা লিল্লাহি হাজাতুন লি আয় ইয়াদা তয়ামাহু অয়া সারাবাহু’’
অর্থাৎ যে ব্যাক্তি অনর্থক কথা এবং কাজ থেকে বিরত থাকলো না তার ব্যাপারে আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই যে, সে খাদ্য ও পানিয় থেকে বিরত থাকবে।
এ ছারাও হাদিস হযরত আবুহুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত ,
''আস সিয়ামু জুন্নাতুন ফালা ইয়ারফাস ওয়ালা ইয়াজহাল,অইনিম্রাউ কাতালাহু আউ সাতামাহু ফাল ইয়াকুল ইন্নি সায়ীমুন''
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ الصِّيَامُ جُنَّةٌ فَلاَ يَرْفُثْ وَلاَ يَجْهَلْ وَإِنْ امْرُؤٌ قَاتَلَهُ أَوْ شَاتَمَهُ فَلْيَقُلْ إِنِّي صَائِمٌ مَرَّتَيْنِ
অর্থাৎ রাসুল (সাঃ) বলেন , আবূ হুরাইরাহ্ (রা্দ্বিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সিয়াম ঢাল স্বরূপ। সুতরাং অশ্লীলতা করবে না এবং মূর্খের মত কাজ করবে না। যদি কেউ তার সাথে ঝগড়া করতে চায়, তাকে গালি দেয়, তবে সে যেন দুই বার বলে, আমি সওম পালন করছি।
তাই দেখা যাছে এ স্তরে ওঠা খুবি কথিন,এ স্তরে ওঠার জন্যে সকল ভালোকাজ করার পাশাপাশি সকোল মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে, বিরত থাকতে হবে সকল সন্দেহ জনক কাজ থেকেও।
তাই আমরা দেখতে পাছি ,মুত্তাকি হছে , ইমানের সর্ব উচ্চ স্তর , এ স্তরে ওঠা খুব কঠিন হলেও আল্লাহ রাব্বুল আলামিন একাজটি আমাদের জন্যে সহজ করে দিয়েছেন
ইরশাদ হছে,''কুতিবা আলাইকুমুচ্ছিয়ামু কামা কুতিবা আলাল্লাজিনা মিন কাবলিকুম লায়াল্লাকুম তাত্তাকুন'' সুরা বাকারা ১৮৩
অর্থাৎ তোমাদের উপর রজা ফরজ করা হয়েছে যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী দের অপর যেন তোমরা মুত্তাকি হতে পার।
২। দ্বিতীয় প্রশ্ন হছে , এ স্তরে উঠলে আমরা কি লাভ পাবো?
=*=*= এব্যাপারে ইরশাদ হচ্ছে, মহা গ্রন্থ আল কুরান, সুরা ইমরান, ১৭৬ নং আয়াত,
বালা মান আওফা বি আহদিহি অয়াত্তাকা, ফাইন্নাল্লাহা ইউহিব্বুল মুত্তাকিন ,
যে ব্যাক্তি তার কৃত অঙ্গিকার কে পূর্ণ করবে এবং এ ব্যাপারে আল্লাহ কে ভয় করবে যেনে রাখবে নিশ্চয় আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মুত্তকীন দের ভাল বাসেন,
আর মানুষ হিসেবে আমাদের সবথেকে বড় পাওনা স্রস্টার ভাল বাসা পাওয়া যিনি আমাদের সৃষটি করে ছেন , আর মুত্তাকিন হলে আমরা এটা পেয়ে যাব।
=*=* সুরা নাবার ৩১ নং আয়াতে এসেছে,
'' ইন্না লিল মুত্তাকিনা মাফাজা''
নিশ্চয় মুত্তাকিনরা হবে কৃতকারয ।
আর পরকালীন জীবনে সফলতাই আমাদের একমাত্র উদ্দেশ্য , আর যা অর্জন করতে আমাদের হতে হবে মুত্তাকি।
এছাড়াও=*=* সুরা তালাকের ৫ নং আয়াতে বর্ণিত হয়েছে, وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُ مِنْ أَمْرِهِ يُسْرًا যে ব্যাক্তি তাকওয়া অবলম্বন করবে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তার কাজগুলোকে সহজ করে দিবেন ,
এছাড়াও বর্ণিত হয়েছে, وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يُكَفِّرْ عَنْهُ سَيِّئَاتِهِ وَيُعْظِمْ لَهُ أَجْرًا
যে ব্যাক্তি তাকওয়া অবলম্বন করবে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তার পাপগুলোকে মাপকরে দিবেন আর তাকে দিবেন মহা প্রতিদান ,
তাই দেখা যাচ্ছে হাশরের মাঠে বিচারের সময় যারা মুত্তাকি তাদের কোন পাপ থাকবেনা ,তারা বিনা হিসেবে জানাতে যাবে।
কিয়ামতের মাঠে আল্লাহ যখন বিচার শুরু করবে তখন যার পাপ পাপের পাল্লা ভারি হবে সে হবে জাহান্নামী , আর যার পুন্নের পাল্লা ভারি হবে সে হবে জান্নাতি, আর এমন কিছু মানুষ থাকবে যাদের কোন পাপ থাকবেনা , তারা বিনা হিসেবে জান্নাতে যাবে , আর তারা হবে মুত্তাকি।
তাই আমরা সংক্ষেপ বলতে পারি ,মুত্তাকি হলো মুমিনের সরবোউচ্চ স্তর ,আর তার হবে বিনা হিসেবে জান্নাতি, আর সরবচ্চ স্তরের মুমিন হওয়া খুবি কঠিন তাকে সকল পাপথেকে বেচেথাকতে হবে, তাকে সন্দেহ জনক কাজ থেকও বেচে থাকতে হবে।তাকে পাপনয় তবে অনর্থক কাজ থেকেও বেচেথাকতে হবে। তাই মুত্তাকি হওয়াটা খুবই কঠিন, তবে আল্লাহ তায়ালা কাজটি আমাদের জন্যে সহজ করে দিয়েছেন, তিনি আমাদের জন্যে একটি প্যাকেজ প্রোগ্রাম দিয়েছেন , আর তাহল রোজা, আমরা যদি রমজান মাসে রজা রাখি তাহলে আমরা মুত্তাকি হতে পারবো।
তবে রোজাটা রাখতে হবে সঠিক ভাবে , ইরশাদ হয়েছে ,
রাসুলে কারীম (সাঃ) বলেন , মান লাম ইয়াদা কওলাজ্ঝুরি ওয়াল আমাল বিহি ফালাইসা লীল্লাহি হাজাতুন লি আঈ ঈয়াদা তায়ামাহু ওয়া সারাবাহু,\
যে ব্যাক্তি অনর্থক কাজ থেকে বিরত থাকলো না , অনর্থক কাজ থেকেউ বিরত থাকল না তার ব্যাপারা আল্লাহর কন প্রয়জন নেই যে সে খাদ্য ও পানিয় থেকে বিরত থাকবে।
তাই রোজা রাখতে হবে ভাল ভাবে , রজা রাখতে হবে ইমান ও সাওয়াবের আশায়। ইরশাদ হছে , ''মান সামা রমাদানা ইমানও ওয়া ইহতিসাবা গুফিরালাহু মা তাকাদ্দামা মিন জানবিউ।
অর্থাৎ যে ব্যাক্তি রমজান মাসে ইমান ও সাওয়াবের আসায় রোজা রাখল, তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে,
এখন আশি রোজার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায়,
আমরা জানি গত, ২০১৬ সালে একজন যাপানি বিজ্ঞানিক নোবেল পুরস্কার পান , আর তার গবেশনার বিষয় ছিল , autophagy যার অর্থ হলো নিজে নিজেকে খাওয়া অর্থাৎ একটা জীব কোষ যখন নিজেই নিজেকে খায় তখন তাকে autophagy বলে , আর এ ঘটনাটি তখন ঘটে , যখন জীব খদ্য গ্রহনে বিরত থাকে ,তখন কোষ কোন খাবার পায়না , তখন কোষ গুলো অন্য মৃত কষ গুলো খেয়ে ফেলে, আমরা জানি উদ্ভিদ ও প্রাণী দেহ অসংখ্য কোষ দারা গঠিত ,উদ্ভিদ ও প্রানি কোষের গঠনে রয়েছে ভিন্নতা , উদ্ভিদ তার খাদ্য পরিপাক করে কোষে, তাই উদ্ভিদ কোষের মাঝখানে কোষ গহবর থাকে , এবং য়ার প্রানী তার খাদ্য পরিপাক করে পাকস্থলিতে , পাকস্থলিতে খাদ্য পরিপাক হওয়ার পর যে খাদ্য রস তৈরি হয় সেটা রক্তের মাধ্যমে বাহিত হয়ে আমাদের শরীরের কোষ গুলোতে পৌঁছে যায়। কোষ এটা গ্রহন করে রিষ্ট পুষ্ট হয়, ফলে আমাদের শরীর বড় হয় আর শক্তি শালী হয়। তবে কোষ যখন খাদ্য রস গ্রহন করে তখন এই রস কোষের মধ্যেও সীমিত পরিসরে digest হয়। ফলে কোষের মধ্যেও কিছু ময়লা জমা হয়। আমরা সারা বছর খাদ্য গ্রহন করতে থাকি ফলে আমাদের এই ময়লা বাড়তে থাকে , চিন্তা করেন আমাদের শরীরের প্রতিটি কোষে ময়লা জমা হছে। ফলে শরীরের যে রোগ গুলো হয় তা হলো, ডায়াবেটিস , ক্যান্সার , পারকিন্সন্স, এ ছাড়াও আমাদের শরীরে কোষের সংখ্যা বৃধি পাচ্ছে, একই ভাবে কিছু কোষ মারাও যাচ্ছে , তাই মৃত কোষ আর জীবিত কোষ গুলোর মধ্যে যে ময়লা জমা হচ্ছে তা পরিষ্কার করা প্রয়োজন হয়।
আমরা ধারাবাহিক ভাবে খাদ্য গ্রহন করতে থাকলে , আমাদের শরীরে মৃত কোষ আর কোষের মধ্যে ময়লা বৃদ্ধি পেতে থাকে ,কিন্তু আমরা যখন খাদ্য গ্রহন থেকে বিরত থাকি তখন আমাদের শরীরের কোষ গুলো আর খাদ্য পায় না ফলে সে নিজের মধ্যেই জমা ময়লা গুলো খেয়ে ফেলে । এর পরও যদি কোষ খাদ্য না পায় তখন সে শরীরে জমা মৃত কোষ গুলো খেয়ে ফেলে , ফলে আমাদের শরীর হয় রোগ মুক্ত, রোজার এই নানাবিধ উপকারের কারনে, যাপানের ঐ বিজ্ঞানী যিনি মুসলিম নন তিনি সপ্তাহে দুদিন রোজা রাখেন, তিনি মুসলিম নন তবে তিনি সপ্তাহে দুদিন রোজা রাখেন,
আর আমাদের নবিজীও সপ্তাহে দুদিন সোম ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখতেন,
তাই আমরা নির্দ্বিধায় বলতে পারি রোজা রাখা আমাদের পরকালীন জীবনে মুক্তির পাশা পাশি এহকালীন জীবনেরও শান্তিও নিশ্চিত করে।
বিষয়টা আমারা ব্যাখ্যা করবো ইসলামি শরীয়তের দৃষ্টি কোন থেকে এবং বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে।
আমরা জানি রোযার অনেক রহমত ও বারকত রোয়েছে, রোয়েছে ক্ষমা ও জান্নাত প্রাপ্তির নিশ্চয়তা,
এ গুলো আমরা জানি, যেমন হাদীস এসেছে,
= *= *= হাদিস,হযরত আবুহুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত , ইজা দাখালা রামাদানা ফুতিহাত আবয়াবাস সামাউ, ওয়া গুল্লিকাত আবওয়াবাস জাহান্নাম, ওয়া সিলসিলাতিস সয়াতিন,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رضى الله عنه - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِذَا جَاءَ رَمَضَانُ فُتِّحَتْ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ النَّارِ وَصُفِّدَتِ الشَّيَاطِينُ
- যখোন রামাদান প্রবেশ করে আসমানের দরোজা খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরোজা বন্ধ দেওয়া হয়, আর শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়।
এ গুলো করা হয় আমরা যেন নির্বিঘ্নে ইবাদাত করতে পারি,
=* =* = এ ছাড়াও হাদীসে এসেছে , , রাসুলেকারিম (সাঃ) বলেন, ``মান সামা রামাদানা ইমানাও ওয়া ইহতিসাবা গুফিরালাহুমা তাকাদ্দামা মিন যানবিও’’
- যে ব্যাক্তি রমযান মাসে রোযা রাখবে ইমান ও সাওয়াবের আসায় তার পূর্ববর্তী সকোল গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।
=*=*= হাদীস এসেছে, সাহল (রাঃ) হতে বর্ণিত , রাসুলে কারিম (সাঃ) হতে বর্ণিত ,জান্নাতের ৮ টি দরজা রয়েছে, তার মদ্ধে একটি দরজার নাম রায়ান, যে দরযা থেকে রোজাদার দের আহবান করা হবে জান্নাতে প্রবেশের জন্যে।عَنْ سَهْلٍ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِنَّ فِي الْجَنَّةِ بَابًا يُقَالُ لَهُ الرَّيَّانُ يَدْخُلُ مِنْهُ الصَّائِمُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لاَ يَدْخُلُ مِنْهُ أَحَدٌ غَيْرُهُمْ يُقَالُ أَيْنَ الصَّائِمُونَ فَيَقُومُونَ لاَ يَدْخُلُ مِنْهُ أَحَدٌ غَيْرُهُمْ فَإِذَا دَخَلُوا أُغْلِقَ فَلَمْ يَدْخُلْ مِنْهُ أَحَدٌ
অর্থাৎ জান্নাতে ঢোকার জন্যে আমাদের জন্যে একটি দরজা নিরধারিত থাকছে,
কোন কারনে অন্য দরজা গুলো বন্ধ থাকলেও আমরা রায়্যান নামক দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারব।
তবে রমজান মাসে রহমাত,বরকত আর ক্ষমা পাওয়ার পাশাপাশি জান্নাতের একটি দরজা নির্ধারিত থাকলেও
প্রশ্ন হলো,আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কী এ জন্ন্যেই রোযাকে ফরজ করেছেন?
উত্তর হলো, না।আমারা যেটা পাব সেটা রমজানের ফজিলত, আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের ক্ষমা প্রাপ্তি,এমনকি জান্নাত প্রাপ্তির চেয়েও গুরুত্ব পূর্ণ উদ্দেশ্যে আল্লা আমাদের উপর রোজা ফরজ করেছেন,
এরশাদ হয়েছে, পবিত্র করানের সুরা বাকারা ১৮৩ নং আয়াত,
‘’কুতিবা আলাইকুমুস সালামা কামা কুতিবা আলাল্লাযীনা মিনকাবলিকুম লায়াল্লাকুম তাত্তাকুন’’
- - তোমাদের উপর রোজা ফরোজ করা হয়েছে যেমন ফরোজ করা হয়েছেল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর ফরজ করা হয়েছিল,যেন তোমরা মুত্তাকি হতে পার।
অর্থাৎ আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের উপর রোজা ফরজ করেছেন যেন আমরা মুত্তাকি হতে পারি ,অর্থাৎ মুত্তাকী হওটা আল্লারাব্বুল আলামিনের ক্ষমা আর জান্নাত প্রাপ্তির চেও গুরুত্ব পূর্ণ,
এখন বোঝা দরকার কি সেই মুত্তাকি যার এত গুরুত্ব ,তার মর্যাদা পূর্ণ অবস্থাটা কী?
আমরা জানি একজন ব্যাক্তি যখন আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের উপর ইমান আনে তখন তার ৪ টি অবস্থা সৃষ্টি হয়।
১।যখন সে কালেমায় শাহাদা পাঠ করে তখন তাকে বলা হয় মুমিন,
এ ক্ষেত্রে তাকে ৬ টি বিষয়ের উপর ঈমান আনতে হয়। আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের উপর ,রাসুলে কারীম (সাঃ) এর উপর, পূর্ব বর্তি নবী রাসুলের উপর আসমানি কিতাব,ফেরেস্তা আর জান্নাত ,জাহান্নামের উপর।
২।এর উপরের স্তর হল মুসলিম , যখন সে ইসলামের মৌলিক বিষয় গুলো বিশ্বাস করার পাশাপাশি ইবাদাত গুলোও পালন করা শুরু করে ,তখন তাকে বলা হয় মুসলিম ,এ ক্ষেত্রে তাকে ৫ টি কাজ করতে হবে,
হাদীস হজরত ওমার (রাঃ) থেকে বর্ণীত ,রাসুলে কারিম (সাঃ)বলেছেন ,
=*=*= ‘’ বুনিয়াল ইসলাম আলা খামছিন, শাহাদাতু আল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ,ইকামুস সালাত অয়া ইতাউজ্জাকাত,ওয়াসসাওমু রমাদান,ওয়াল হাজ্জুল বায়ত,
অর্থাৎ practicing mu’min
এব্যাপারে মহা গ্রন্থ আলকোরানে বর্ণিত হয়েছে,
*=*=*=‘’ কুল লাম তু’মিন ওয়ালা কিং কুলু আসলামনা’’
আর এ কথাটি বলা হয়েছিল আরবের এক বেদুইন গত্রকে , একবার আরবে দুর্ভিক্ষ দেখা দিল , আর খাবারের জন্যে একদল আরব বেদুইন রাসুলেকারীম (সাঃ) এর কাছে আসলেন, আর বল্লেন , হে রাসুল (সাঃ) আমরা আল্লাহর প্রতি ইমান এনেছি , আমাদের কিছু খাবার দিন , উত্তরে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এই আয়াত নাযিল করেন, চিন্তা করুন কথাটি রাসুল (সাঃ) এর না , সরাসরী আল্লাহর বানী, আল্লাহ বলছেন যে তোমরা বলনা আমরা মু’মিন হয়েছি বরং বল, আমরা মুসলিম হয়েছি , তাই বোঝা যায় একজন ব্যাক্তির মুমিন হওয়াটা তার পরকালীন জীবনে মুক্তি পাওয়ার জন্যে যথেষ্ট নাও হতে পারে।
তাই আমাদেরকে মৌখিক বিশ্বাসের পাশাপাশি ইসলামের মৌলিক কাজ গুলো করতে হবে,
তবে আমরা যে কাজ গুলো করবো তা সঠিক হতে হবে, আর ভালো নাম্বার পাওয়ার জন্যে কাজগুলো সুন্দর হওয়া ও আবশ্যক , আর আমরা যখন ইসলামের মৌলিক ইবাদাত গুলো করার পাশাপাশি এ কাজ গুলো সুন্দর করার চেষ্টা করব, তখন তাকে বলাহয় মহসিন,
৩।এটা মু’মিনের তৃতীয় স্তর , এব্যাপারে হাদীস এসেছে, হাদীসে জিবরাইল , ‘’ একদিন জিবরাইল (আঃ) রাসুলে কারীম (সাঃ) এর কাছে আসলেন, আর রাসুল(সাঃ) মসজিদে নববীতে বসে ছিলেন ,তিনি আসলেন মানুষের বেশে ,কেউ তাকে চিনতে পারলোনা ,তিনি রাসুলেকারীম (সাঃ)এর কাছে বসলেন আর কয়েকটি প্রশ্ন করলেন , তার মধ্যে একটা প্রশ্ন ছিল এরকম, অমাল ইহসান ? অর্থাৎ ইহসান কি? রাসুল (সাঃ) বললেন , তুমি এমন ভাবে ইবাদত করবে যেন তুমি আল্লাহকে দেখছো, (অর্থাৎ মানুষ আল্লাহকে দেখলে কেমন ভয় পাবে তেমন ভয় পেতে হবে, ক্রন্দন রত অবস্থায় থাকবে আর ক্ষমা প্রার্থনা করবে,) তুমি যদি তাকে দেখতে না পাও (অর্থাৎ তোমার এমন অনুভব না হয় ) তবে এ বিশ্বাস রাখবে তিনি তোমাকে দেখছেন।
আর বান্দা যদি একথা অনুভব কোরতে পারে যে তার সামনে আল্লাহ আছে তবে তার ইবাদাতটা হবে অনেক সুন্দর , নিখুঁত । আর এমন ইবাদাতকে বলাহয় ইহসান ,আর এমন ইবাদাত কারীকে বলাহয় মুহসিন,
৪।আর মু’মিনের চতুর্থ স্তর হল, মুত্তাকি, এ স্তরে তাকে আর বেশী সতর্ক হতে হবে, তাকে সকল ভাল কাজ করার পাশাপাশী সকল মন্দ কাজ পরিহার করতে হবে, এমনকি তাকে এমন মন্দকাজ পরিহার করতে হবে যা আসলে মন্দকাজ নয় ,
যেমন, এক জায়গায় একটা গানবাজনার অনুষ্ঠান হছে, এর পাশদিয়েই রয়েছে একটা রাস্তা ,ঐ রাস্তা দিয়ে আপ্নে কোথাও যাবেন , বিকল্প পথ থাকলে আপনি ঐ পথদিয়ে যেথে পারবেননা ।কারন ঐ পথদেয়ে যাওয়ার সময় আপনি একবার তাকেতে পারেন অথবা বসে পরতে পারেন , তাই আপনি যদি মুত্তাকি হন তবে পাপের নিকটবর্তি হবেননা , এটা মুত্তাকিন দের জন্যে নিশিধ ,
আর এই স্তরে ওঠা খুব কঠিন কারন সকল সন্দেহ জনক কাজ থেকে দূরে থাকতে হয়।দুরে থাকতে হয় ঐ সমস্ত কাজ থেকে যা অপতাধ নয় তবে জ্ঞানী ব্যাক্তির নিকট কাজটি শোভনীয় নয়।
যেমন , হাদীস, হযরত আবুহুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণীত, রাসুলে কারীম (সাঃ) বলেন, ‘’মান লাম ইয়াদা কাওলাজ ঝুর অয়াল আমালা বিহি ফালাইসা লিল্লাহি হাজাতুন লি আয় ইয়াদা তয়ামাহু অয়া সারাবাহু’’
অর্থাৎ যে ব্যাক্তি অনর্থক কথা এবং কাজ থেকে বিরত থাকলো না তার ব্যাপারে আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই যে, সে খাদ্য ও পানিয় থেকে বিরত থাকবে।
এ ছারাও হাদিস হযরত আবুহুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত ,
''আস সিয়ামু জুন্নাতুন ফালা ইয়ারফাস ওয়ালা ইয়াজহাল,অইনিম্রাউ কাতালাহু আউ সাতামাহু ফাল ইয়াকুল ইন্নি সায়ীমুন''
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ الصِّيَامُ جُنَّةٌ فَلاَ يَرْفُثْ وَلاَ يَجْهَلْ وَإِنْ امْرُؤٌ قَاتَلَهُ أَوْ شَاتَمَهُ فَلْيَقُلْ إِنِّي صَائِمٌ مَرَّتَيْنِ
অর্থাৎ রাসুল (সাঃ) বলেন , আবূ হুরাইরাহ্ (রা্দ্বিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সিয়াম ঢাল স্বরূপ। সুতরাং অশ্লীলতা করবে না এবং মূর্খের মত কাজ করবে না। যদি কেউ তার সাথে ঝগড়া করতে চায়, তাকে গালি দেয়, তবে সে যেন দুই বার বলে, আমি সওম পালন করছি।
তাই দেখা যাছে এ স্তরে ওঠা খুবি কথিন,এ স্তরে ওঠার জন্যে সকল ভালোকাজ করার পাশাপাশি সকোল মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে, বিরত থাকতে হবে সকল সন্দেহ জনক কাজ থেকেও।
তাই আমরা দেখতে পাছি ,মুত্তাকি হছে , ইমানের সর্ব উচ্চ স্তর , এ স্তরে ওঠা খুব কঠিন হলেও আল্লাহ রাব্বুল আলামিন একাজটি আমাদের জন্যে সহজ করে দিয়েছেন
ইরশাদ হছে,''কুতিবা আলাইকুমুচ্ছিয়ামু কামা কুতিবা আলাল্লাজিনা মিন কাবলিকুম লায়াল্লাকুম তাত্তাকুন'' সুরা বাকারা ১৮৩
অর্থাৎ তোমাদের উপর রজা ফরজ করা হয়েছে যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী দের অপর যেন তোমরা মুত্তাকি হতে পার।
২। দ্বিতীয় প্রশ্ন হছে , এ স্তরে উঠলে আমরা কি লাভ পাবো?
=*=*= এব্যাপারে ইরশাদ হচ্ছে, মহা গ্রন্থ আল কুরান, সুরা ইমরান, ১৭৬ নং আয়াত,
বালা মান আওফা বি আহদিহি অয়াত্তাকা, ফাইন্নাল্লাহা ইউহিব্বুল মুত্তাকিন ,
যে ব্যাক্তি তার কৃত অঙ্গিকার কে পূর্ণ করবে এবং এ ব্যাপারে আল্লাহ কে ভয় করবে যেনে রাখবে নিশ্চয় আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মুত্তকীন দের ভাল বাসেন,
আর মানুষ হিসেবে আমাদের সবথেকে বড় পাওনা স্রস্টার ভাল বাসা পাওয়া যিনি আমাদের সৃষটি করে ছেন , আর মুত্তাকিন হলে আমরা এটা পেয়ে যাব।
=*=* সুরা নাবার ৩১ নং আয়াতে এসেছে,
'' ইন্না লিল মুত্তাকিনা মাফাজা''
নিশ্চয় মুত্তাকিনরা হবে কৃতকারয ।
আর পরকালীন জীবনে সফলতাই আমাদের একমাত্র উদ্দেশ্য , আর যা অর্জন করতে আমাদের হতে হবে মুত্তাকি।
এছাড়াও=*=* সুরা তালাকের ৫ নং আয়াতে বর্ণিত হয়েছে, وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُ مِنْ أَمْرِهِ يُسْرًا যে ব্যাক্তি তাকওয়া অবলম্বন করবে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তার কাজগুলোকে সহজ করে দিবেন ,
এছাড়াও বর্ণিত হয়েছে, وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يُكَفِّرْ عَنْهُ سَيِّئَاتِهِ وَيُعْظِمْ لَهُ أَجْرًا
যে ব্যাক্তি তাকওয়া অবলম্বন করবে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তার পাপগুলোকে মাপকরে দিবেন আর তাকে দিবেন মহা প্রতিদান ,
তাই দেখা যাচ্ছে হাশরের মাঠে বিচারের সময় যারা মুত্তাকি তাদের কোন পাপ থাকবেনা ,তারা বিনা হিসেবে জানাতে যাবে।
কিয়ামতের মাঠে আল্লাহ যখন বিচার শুরু করবে তখন যার পাপ পাপের পাল্লা ভারি হবে সে হবে জাহান্নামী , আর যার পুন্নের পাল্লা ভারি হবে সে হবে জান্নাতি, আর এমন কিছু মানুষ থাকবে যাদের কোন পাপ থাকবেনা , তারা বিনা হিসেবে জান্নাতে যাবে , আর তারা হবে মুত্তাকি।
তাই আমরা সংক্ষেপ বলতে পারি ,মুত্তাকি হলো মুমিনের সরবোউচ্চ স্তর ,আর তার হবে বিনা হিসেবে জান্নাতি, আর সরবচ্চ স্তরের মুমিন হওয়া খুবি কঠিন তাকে সকল পাপথেকে বেচেথাকতে হবে, তাকে সন্দেহ জনক কাজ থেকও বেচে থাকতে হবে।তাকে পাপনয় তবে অনর্থক কাজ থেকেও বেচেথাকতে হবে। তাই মুত্তাকি হওয়াটা খুবই কঠিন, তবে আল্লাহ তায়ালা কাজটি আমাদের জন্যে সহজ করে দিয়েছেন, তিনি আমাদের জন্যে একটি প্যাকেজ প্রোগ্রাম দিয়েছেন , আর তাহল রোজা, আমরা যদি রমজান মাসে রজা রাখি তাহলে আমরা মুত্তাকি হতে পারবো।
তবে রোজাটা রাখতে হবে সঠিক ভাবে , ইরশাদ হয়েছে ,
রাসুলে কারীম (সাঃ) বলেন , মান লাম ইয়াদা কওলাজ্ঝুরি ওয়াল আমাল বিহি ফালাইসা লীল্লাহি হাজাতুন লি আঈ ঈয়াদা তায়ামাহু ওয়া সারাবাহু,\
যে ব্যাক্তি অনর্থক কাজ থেকে বিরত থাকলো না , অনর্থক কাজ থেকেউ বিরত থাকল না তার ব্যাপারা আল্লাহর কন প্রয়জন নেই যে সে খাদ্য ও পানিয় থেকে বিরত থাকবে।
তাই রোজা রাখতে হবে ভাল ভাবে , রজা রাখতে হবে ইমান ও সাওয়াবের আশায়। ইরশাদ হছে , ''মান সামা রমাদানা ইমানও ওয়া ইহতিসাবা গুফিরালাহু মা তাকাদ্দামা মিন জানবিউ।
অর্থাৎ যে ব্যাক্তি রমজান মাসে ইমান ও সাওয়াবের আসায় রোজা রাখল, তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে,
এখন আশি রোজার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায়,
আমরা জানি গত, ২০১৬ সালে একজন যাপানি বিজ্ঞানিক নোবেল পুরস্কার পান , আর তার গবেশনার বিষয় ছিল , autophagy যার অর্থ হলো নিজে নিজেকে খাওয়া অর্থাৎ একটা জীব কোষ যখন নিজেই নিজেকে খায় তখন তাকে autophagy বলে , আর এ ঘটনাটি তখন ঘটে , যখন জীব খদ্য গ্রহনে বিরত থাকে ,তখন কোষ কোন খাবার পায়না , তখন কোষ গুলো অন্য মৃত কষ গুলো খেয়ে ফেলে, আমরা জানি উদ্ভিদ ও প্রাণী দেহ অসংখ্য কোষ দারা গঠিত ,উদ্ভিদ ও প্রানি কোষের গঠনে রয়েছে ভিন্নতা , উদ্ভিদ তার খাদ্য পরিপাক করে কোষে, তাই উদ্ভিদ কোষের মাঝখানে কোষ গহবর থাকে , এবং য়ার প্রানী তার খাদ্য পরিপাক করে পাকস্থলিতে , পাকস্থলিতে খাদ্য পরিপাক হওয়ার পর যে খাদ্য রস তৈরি হয় সেটা রক্তের মাধ্যমে বাহিত হয়ে আমাদের শরীরের কোষ গুলোতে পৌঁছে যায়। কোষ এটা গ্রহন করে রিষ্ট পুষ্ট হয়, ফলে আমাদের শরীর বড় হয় আর শক্তি শালী হয়। তবে কোষ যখন খাদ্য রস গ্রহন করে তখন এই রস কোষের মধ্যেও সীমিত পরিসরে digest হয়। ফলে কোষের মধ্যেও কিছু ময়লা জমা হয়। আমরা সারা বছর খাদ্য গ্রহন করতে থাকি ফলে আমাদের এই ময়লা বাড়তে থাকে , চিন্তা করেন আমাদের শরীরের প্রতিটি কোষে ময়লা জমা হছে। ফলে শরীরের যে রোগ গুলো হয় তা হলো, ডায়াবেটিস , ক্যান্সার , পারকিন্সন্স, এ ছাড়াও আমাদের শরীরে কোষের সংখ্যা বৃধি পাচ্ছে, একই ভাবে কিছু কোষ মারাও যাচ্ছে , তাই মৃত কোষ আর জীবিত কোষ গুলোর মধ্যে যে ময়লা জমা হচ্ছে তা পরিষ্কার করা প্রয়োজন হয়।
আমরা ধারাবাহিক ভাবে খাদ্য গ্রহন করতে থাকলে , আমাদের শরীরে মৃত কোষ আর কোষের মধ্যে ময়লা বৃদ্ধি পেতে থাকে ,কিন্তু আমরা যখন খাদ্য গ্রহন থেকে বিরত থাকি তখন আমাদের শরীরের কোষ গুলো আর খাদ্য পায় না ফলে সে নিজের মধ্যেই জমা ময়লা গুলো খেয়ে ফেলে । এর পরও যদি কোষ খাদ্য না পায় তখন সে শরীরে জমা মৃত কোষ গুলো খেয়ে ফেলে , ফলে আমাদের শরীর হয় রোগ মুক্ত, রোজার এই নানাবিধ উপকারের কারনে, যাপানের ঐ বিজ্ঞানী যিনি মুসলিম নন তিনি সপ্তাহে দুদিন রোজা রাখেন, তিনি মুসলিম নন তবে তিনি সপ্তাহে দুদিন রোজা রাখেন,
আর আমাদের নবিজীও সপ্তাহে দুদিন সোম ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখতেন,
তাই আমরা নির্দ্বিধায় বলতে পারি রোজা রাখা আমাদের পরকালীন জীবনে মুক্তির পাশা পাশি এহকালীন জীবনেরও শান্তিও নিশ্চিত করে।

Post a Comment