Header Ads

imran

Education In turki

Education In Turki
তুরস্কে উচ্চশিক্ষার হালচালউচ্চশিক্ষায় আগ্রহী বাংলাদেশী ছাত্রছাত্রীদের কাছে আমেরিকা, কানাডা কিংবা ইউকের মত তুরস্ক একটি স্বপ্নের দেশ না হলেও এর গুরুত্ব কিংবা আকর্ষণ মোটেই কম নয়। বিশেষ করে বিদেশী ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য প্রদত্ত তুরস্ক সরকারের স্কলারশীপ প্রকল্পগুলো দিন দিন সহজেই সবার নজর কাড়তে সক্ষম হচ্ছে। অনেকেই দেশটির উচ্চশিক্ষার খুটিনাটি জানতে ইনবক্সে আমাকে নক করে থাকেন। কখনো উত্তর দেয়া হয়, কখনো উত্তর দেয়ার সুযোগ হয় না বলে অনেকে কষ্ট পান। আজ তুরস্কের পড়াশোনা নিয়ে আপনাদের বিভিন্ন জিজ্ঞাসার জবাব একসাথে দেয়ার চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ।
turki


তুরস্কের শিক্ষার মান কেমন?
-তুরস্কের শিক্ষার মান ইউরোপের অনেক উন্নত দেশের চেয়ে মোটেই পিছিয়ে নেই। বিশ্বের সেরা পাঁচশ, দুশ এমনকি সেরা একশ এর মধ্যেও রয়েছে তুরস্কের কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম। সবুজ শ্যামল মনোরম বিশাল ক্যাম্পাস, ডিজিটাল প্রযুক্তিসম্মত উন্নত ক্লাশ রুম, সুবিশাল লাইব্রেরী, গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত বাজেট ও উন্নত পরিবেশ, যোগ্যতা সম্পন্ন শিক্ষকমন্ডলী এ সবই এখানকার বিশ্ববিদ্যালয়ের গুলোর প্রধান বৈশিষ্ঠ্য।
ভর্তির সময় কখন ও কিভাবে?
- সেপেটম্বর মাসেই সেশনের শুরু হয়। এর আগে ভর্তি পরীক্ষা (ইয়োস) হয়ে থাকে। এ ছাড়া বিদেশী ছাত্রদের জন্য প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় নিজেদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পৃথক পৃথক সময়ে এপ্লিকেশনের আহবান করে থাকে। সাধারণত জুনের শেষে বা জুলাই মাসের দিকে। এ সময় যারা এপ্লিকেশন করে, তাদের মধ্য থেকে বাছাইকৃতদের ইমেইলের মাধ্যমে অফার লেটার পাঠিয়ে দেয়া হয়। পরবর্তীতে ভিসা নিয়ে আসার পর চুড়ান্তভাবে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। তবে তুরস্কে অবস্থানকারী বিদেশী ছাত্রছাত্রীদরে জন্য পরবর্তীতে একটা নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত আগষ্টের দিকে) নিজেদের পূর্বের সার্টিফিকেট ও মার্কশীট নিয়ে সরারসরি ডিপার্টমেন্টগুলোতে ইন্টার্ভিউ দিয়েও ভর্তির সুযোগ দেয়া হয়। অনলাইন এপ্লিকেশন করে কোন সাবজেক্ট না পেলে ‘টার্কিশ ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র’ থেকে নির্দিষ্ট ফি’র একাংশ পরিশোধ করে এক্সেপ্টেন্স লেটার সংগ্রহ করে ভিসা নিয়ে তুরস্কে আসার সুযোগ রয়েছে। টার্কিশ ভাষা শিক্ষা কোর্স শেষ হলে পরবর্তী বছর ভর্তি পরীক্ষ দিয়ে অথবা সরাসরি ইন্টার্ভিউ এর মাধ্যমে ভর্তি হওয়া যায়।
টিউশন ফি কেমন?
-বিশ্ববিদ্যালয় ভেদে টিউশন ফি’র পরমিাণের কম বেশী হয়। বর্তমান রাজধানী আংকারা কিংবা পূর্বের রাজধানী ইস্তাম্বুলের চেয়ে অন্য শহরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর টিউশিন ফি অনেকটাই কম। গড়ে মেডিকেল ডিপার্টমেন্টে পড়তে ৭ হাজার লিরা বা ১ লাখ ৬১ হাজার টাকা, ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টে ৯ হাজার লিরা বা ২ লাখ ৭ হাজার টাকা এবং বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগের অন্যান্য বিষয়ের উপর অনার্স কোর্স কম্পলিট করতে ৪ বছরে মোট ৬/৭ হাজার লিরা’র মত খরচ পড়বে। (১ লিরা=২৩ টাকা)। এখানে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার জন্য বাংলাদেশের মত আলাদা আলাদা বিশ্ববিদ্যালয় নেই। এগুলোও বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য সাবজেক্টের মত একেকটি সাবজেক্ট মাত্র। ক্যাম্পাসও একই সাথে। মাস্টার্স কোর্সের টিউশন ফি অনার্স কোর্সের চার ভাগের এক ভাগের মত।
স্কলারশীপ পাওয়া যায় কি?
-জি। পিএইচডি, মাস্টার্স, অনার্স এমনকি কলেজ পর্যয়েও বিভিন্ন ধরণের একাধিক স্কলারশীপের ব্যবস্থা রয়েছে। সাধারণত স্কলারশীপের জন্য এপ্লাই করার মূল সময় বছরের প্রথম মাস জানুয়ারী। এর বাইরে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব এমনকি অনেক ডিপার্টমেন্টের নিজস্ব স্কলারশীেেপর ব্যবস্থা রয়েছে। অনলাইনেই এপ্লিকেশন করতে হয় স্কলারশীপের জন্য। এপ্লিকেশন গৃহীত হলে স্কলারশীপ কর্তৃপক্ষ ইমেইলের মাধ্যমেই যোগাযোগ করে থাকে। প্রায় সব সাবজেক্টের জন্যই স্কলারশীপের এপ্লাই করা যায়।
’স্কলারশীপের পরিমাণ কত?
-সব ধরণের টিউশন ফি, হলে ফ্রি থাকা খাওয়া ও হেল্থ ইন্সুরেন্স বাদে মাসিক পিএইচডি-৩২০০০/- মাস্টার্স ২২০০০/- এবং অনার্স ১৭০০০/- নগদ স্কলারশীপ প্রদান করে ‘তুর্কিয়ে বুর্সলারী’ বা তুরস্কের সরকারী স্কলারশীপ কর্তৃপক্ষ। দেশটির ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বৃত্তি প্রকল্প ‘দিয়ানেত বুর্সু’ নগদ টাকার পরিমাণ ‘তুর্কিয়ে বুর্সলারী’র চেয়ে একটি কম দিলেও অন্যান্য সুযোগ সুবিধাগুলো প্রায় সমান। এর বাইরে রয়েছে প্রথম ও শেষ ট্রিপের বিমান টিকেট। এ ছাড়াও ‘টুবিটাক’সহ আরো কিছু স্কলারশীপের ব্যবস্থা রয়েছে।
স্কলারশীপ সিলেকশন হয় কিভাবে?
-তুরস্কে স্কলারশীপ পাওয়ার জন্য কোন মামা-খালু, দল, মন্ত্রী কিংবা এমপির পক্ষ থেকে লবিং কিংবা রিকুয়েস্ট, কোন এজেন্সির বিশেষ কোন তদবির অথবা টাকার বিনিময়ে কিছু করার কোন সুযোগ নেই। ছাত্রছাত্রীদরে পূর্বের পরীক্ষা সমুহের ফলাফল, এক্সটা অর্ডিনারী কুয়ালিটি ও সামাজিক কার্যক্রমের ভিত্তিতেই সিলেকশন করা হয়ে থাকে।
হল বা আবাসিক ব্যবস্থা কেমন?
- থাকা-খাওয়া ও স্টাডির জন্য রয়েছে উন্নত মাণের সুযোগ সুবিধাসহ ছাত্রছাত্রীদের আলাদা আলাদা আবাসিক হল বা ডরমিটরি। একেবারে কম সুযোগ সুবিধা সম্মত ডরমিটরি গুলোতেও ওয়েল ডেকোরেটেড নিজ রুমে চেয়ার টেবিল, আলমারির বাইরে রয়েছে প্রতিটা ফ্লোরে একাধিক স্টাডি হলরুম, সেন্ট্রাল লাইব্রেরী, ক্যান্টিন, প্রশস্ত ডাইনিং হল, টিভি রুম, ব্যায়ামাগার, ফ্লোর ভিত্তিক একাধিক কমন ফ্রিজ প্রভৃতি। এগুলোতে মাসিক খরচ পড়ে ৪০০ লিরা থেকে ৮০০ লিরা পর্যন্ত। আর উন্নত ডরমিটরির সুযোগ সুবিধা পুরোপুরি ফোর স্টার হোটেলের মত না হলেও ত্রি স্টার হোটেল থেকে মোটেই কম নয়। প্রতিটি রুমেই একটি করে ফ্রিজ রয়েছে। এগুলোতে মাসিক খরচ আগের গুলোর চেয়ে একটু বেশী। স্কলারশীপ প্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীদের জন্য সম্পুর্ণ ফ্রি। প্রতিটা ডরমিটরিতেই এন্ট্রি ও এক্সিটের সময় আঙুলের ছাপ দেয়া বাধ্যতামূলক। ডরমিটরিগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙিনার মধ্যে ও আশেপাশে থাকলেও এগুলোর নিয়ন্ত্রন করে থাকে দেশটির শিক্ষামন্ত্রনালয়। ফলে একই ডরমিটরিতে একাধিক প্রতিষ্ঠানের ছাত্ররা একসাথে থাকতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয় বা হলগুলোতে ছাত্ররাজনীতি আছে কি?
-জি না। তুরস্কের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আমাদের দেশের মত কোন রাজনৈতিক তৎপরতা চালানোর কোন সুযোগ নেই। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সম্পূর্ণভাবে ছাত্র-ছাত্রীদের অধ্যয়ন, সংস্কৃতি চর্চা, স্পোর্টস ও বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু।
ইউরোপে ক্রেডিট ট্রান্সফারের সুযোগ আছে কি?
-ইউরোপের প্রায় সব দেশের সাথে রয়েছে তুরস্কের বিশ্ববিদ্যলয়গুলোর পৃথক পৃথক চুক্তি। এর মধ্যে অন্যতম হলো এরাসমুস পদ্ধতি। এই পদ্ধতির মাধ্যমে একজন ছাত্র-ছাত্রী তার একাডেমিক একটি সেমিস্টার শেষ হলেই বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত ইংরেজি ভাষার উপর একটি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে হয়। এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ছাত্র-ছাত্রী তার সাবজেক্টের পরবর্তী এক সেমিস্টার বা দুই সেমিস্টার জার্মানী, ফ্রান্স, হল্যান্ডসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রায় সব দেশের যে কোন একটিতে গিয়ে অধ্যয়নের সুযোগ লাভ করে। উল্লেখ্য, পরীক্ষাটি সাধারণত খুব সহজই হয়ে থাকে। প্রতিবছর অসংখ্য বাংলাদেশী ছাত্র-ছাত্রী এই সুযোগ গ্রহণ করে একটি ভিসা নিয়েই সেনজেনভুক্ত দেশগুলোর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা ও ভ্রমণ করার সুযোগ গ্রহণ করছেন।
ইংরেজিতে পড়ার সুযোগ আছে কি?
-তুরস্কের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনার মাধ্যম হলো টার্কিশ ভাষা। এ জন্য মুল কোর্স শুরুর আগে টার্কিশ ভাষা কোর্স সম্পন্ন করতে হয়। তবে কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু কিছু সাবজেক্টে ইংরেজিতে পড়ার সুযোগ রয়েছে। আবার কিছু কিছু সাবজেক্টে ৩০% বা ২০% ইংরেজিতে শেষ করার সুযোগ রয়েছে।
আইইএলটিএস কি জরুরী?
- শিক্ষার মাধ্যম টার্কিশ ভাষা হওয়ায় আইইএলটিএস এর কোন প্রয়োজন হয় না এখানে । তবে যে সব সাবজেক্ট ইংরেজি মাধ্যমে পড়ার সুযোগ রয়েছে সেগুলোতে পড়তে হলে আইইএলটিএস বা টোফেল স্কোর প্রয়োজন হয়। এগুলোর কোনটি না থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিজস্ব ইংলিশ প্রফিসিয়েন্সি প্রোগ্রাম থেকে সি-১ বা বি-১ সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে হয়।
ইসলামিক সাবজেক্টগুলোর জন্য তুরস্ক কেমন?
-ইসলামিক সাবজেক্টে অধ্যয়নের জন্য তুরস্কের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনেক ভালো। এখানে ইসলামিক স্টাডিজ নামে কোন ডিপার্টমেন্ট নেই। ইসলামিক স্টাডিজটা এখানে একটা ফ্যাকাল্টি। এর অধীনে তাফসীর, হাদিস, ফিকহ, ইসলামিক অর্থনীতি, ইসলামিক ফিলোসফি, ইসলাম ও অন্যান্য ধর্ম তথা ইসলাম সম্পর্কিত সব সাবজেক্টই এই ফ্যাকাল্টির অধীনে। এই সাবজেক্টগুলোর সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য সাবজেক্টে অধ্যয়নের সুযোগ সুবিধার কোন পার্থক্য নেই। তবে ইসলামিক স্টাডিজের যে কোন সাবজেক্টে পড়তে হলে তুরস্কের যে কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একবছরের আরবি ভাষা কোর্স সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক।
ভিসা কিভাবে পাওয়া যায়?
-তুরস্কে পড়তে হলে সবার আগে প্রয়োজন ভিসার। তবে ভিসার আগে প্রয়োজন কোন ভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন সাবজেক্ট থেকে অফার লেটার নিশ্চিত করা। অথবা ভাষা শিক্ষা কেন্দ্রগুলো থেকে তুরস্ক অবস্থানরত কারো মাধ্যমে নির্দিষ্ট ফি জমা দিয়ে এক্সেপ্টেন্স লেটার সংগ্রহ করা। তারপর এই অফার লেটার বা এক্সেপ্টেন্স লেটারের সাথে ১০-১২ লাখ টাকার তিন মাসের ব্যাংক স্ট্যাটমেন্টসহ (নিজের নামে বা মা বাবার কারো নামে) অন্যান্য আনুষাঙ্গিক কাগজপত্র ও কাজ সম্পন্ন করে বাংলাদেশস্থ টার্কিশ এম্ব্যাসি বরাবর অনলাইনে ভিসা এপ্লিকেশন করতে হয়। এপ্লিকেশন শেষে কাগজপত্র জমা দেয়ার জন্য এপয়েনমন্টে নিতে হয়। এপয়েনমেন্ট এর সময় অনুযায়ী সব কিছু নিয়ে ইন্টারর্ভিউ দিনে স্বশরীরে হাজির হতে হয়। ইন্টারর্ভিউ সাধারনত ইংরেজিতেই হয়ে থাকে। ভিসা ফি ৪হাজার ৭ শত টাকার মত সেখানেই সেদিনই জমা দিতে হয়। তারপর জমাকৃত ডকুমেন্ট বিশেষ করে সার্টিফিকেট ও ইন্টারর্ভিউয়ের উপর নির্ভর করছে আপনার তুরস্কের স্টুডেন্ট ভিসা।
ভিসা পাওয়া কি সহজ?
- স্টুডেন্ট ভিসায় তুরস্কে এসে এক দিনের জন্যও বিশ্ববিদ্যালয় না গিয়ে অবৈধভাবে ইউরোপে পাড়ি জমানোর হার অনেক বেশী। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর ছাত্ররা অনেক এগিয়ে। এ সব কারণে ভিসা দেয়ার ক্ষেত্রে এম্ব্যাসির পক্ষ থেকে কিছুটা কড়াকড়ি রয়েছে। তবুও সব কিছু অরিজিনাল হলে এবং ইন্টার্ভিউ ভালমত ফেইস করতে পারলে ভিসা না পাওয়ার কোন কারণ নেই। 

কোন মন্তব্য নেই