ঋণগ্রস্ত-মালিকদের-মাথায়-হাত
https://bonikbarta.net/home/news_description/225247/ঋণগ্রস্ত-মালিকদের-মাথায়-হাতনতুন-পুরনো মিলিয়ে হানিফ পরিবহনেরবাসের সংখ্যা কমবেশি এক হাজার। নতুনবাসগুলোর সবক’টিই ব্যাংকের ঋণেরটাকায় কেনা, যেগুলোর কিস্তি চলমান। এসববাস থেকে আয়ের সিংহভাগই চলে যায়কিস্তি পরিশোধে। করোনাভাইরাসেরপ্রাদুর্ভাবে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্তবাসসহ সব ধরনের গণপরিবহন বন্ধ।রয়েছে বন্ধের মেয়াদ দীর্ঘ হওয়ার শঙ্কা।ফলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির শঙ্কাকরছেন হানিফ পরিবহনের কর্মকর্তারা।
সারা দেশে কয়েকশ বাস চলে এনাপরিবহনের, যার একটা বড় অংশবেসরকারি ব্যাংকের অর্থায়নে কেনা। চলমানকরোনা পরিস্থিতিতে বড় ধরনের আর্থিকক্ষতির মুখে পড়তে যাওয়ার কথা বলছেনএনা পরিবহনের কর্মকর্তারাও। শুধু হানিফ বাএনা নয়, একই শঙ্কায় রয়েছেন দেশের সববাস মালিক। ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান মালিকরাওআছেন বিপদে। সবচেয়ে বিপদে আছেনব্যাংকঋণ নিয়ে কেনা গাড়ির মালিকরা।গাড়ি বন্ধ থাকায় ঋণ পরিশোধ নিয়েউদ্বেগ-শঙ্কা বাড়ছে তাদের।
মালিক সংগঠনগুলোর হিসাবে দূরপাল্লাররুটে চলে, সারা দেশে এমন বাসকোম্পানির সংখ্যা দেড় শতাধিক। এরবাইরে একক মালিকানায়ও পরিচালিত হয়অনেক বাস। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহনকর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্য বলছে, ২০১১থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারাদেশে নিবন্ধিত হয়েছে ২২ হাজার ৩৭৮টিবাস। একই সময়ে মিনিবাস নিবন্ধিত হয়েছে৩ হাজার ৬৪৭টি। পরিবহন মালিকরাজানিয়েছেন, এসব বাসের সিংহভাগইবিভিন্ন ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে কেনা।করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘমেয়াদে গাড়িবন্ধ থাকলে ঋণ পরিশোধে সমস্যায়পড়বেন মালিকরা।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতিরমহাসচিব ও এনা পরিবহনের ব্যবস্থাপনাপরিচালক খন্দকার এনায়েতুল্লাহ এ প্রসঙ্গেবণিক বার্তাকে বলেন, এ অবস্থায় শুধু যেপরিবহন মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তাকিন্তু নয়। মালিকদের মতোই ক্ষতিগ্রস্তহচ্ছেন পরিবহন চালক-শ্রমিকরা। গাড়ি বন্ধথাকায় রোজগারহীন হয়ে পড়েছেন তারা।দেশে দীর্ঘমেয়াদে করোনাভাইরাসেরপ্রাদুর্ভাব থাকলে তাদের জীবনযাপন দুর্বিষহহয়ে উঠবে বলে মনে করেন তিনি।
২০১১ থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্তবিআরটিএ থেকে নিবন্ধিত কার্গো ও কাভার্ডভ্যানের সংখ্যা ৩৫ হাজার ১৫৪। একইসময়ে ৭১ হাজার মাঝারি ট্রাক ও ৯৬হাজার ২৬১টি পিকআপের (ছোট ট্রাক) নিবন্ধন দিয়েছে বিআরটিএ। ব্যাংকঋণপরিশোধ নিয়ে শঙ্কায় আছে এসব ট্রাক ওপিকআপ মালিকদের একটা বড় অংশ।
মালিক সংগঠনগুলোর হিসাবে, সারা দেশেট্রাক-কাভার্ড ভ্যানের সংখ্যা দুই লাখেরমতো। এর মধ্যে প্রতিদিন গড়ে ৬০-৭০হাজার ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান চলাচল করেথাকে। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখাদেয়ার পর দৈনিক ট্রাক-কাভার্ড ভ্যানচলাচল ৪০-৪৫ হাজারে নেমে আসে। আরগণপরিবহন বন্ধের পর সংখ্যাটি নেমেএসেছে মাত্র ৮-১০ হাজারে।
ট্রিপ না থাকায় পরিবহন মালিকরামারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলেজানিয়েছেন বাংলাদেশ কাভার্ড ভ্যানমালিক, ট্রাক পণ্য পরিবহন মালিক সমিতিরঅন্যতম শীর্ষ নেতা মকবুল আহমেদ। বণিকবার্তাকে তিনি বলেন, ট্রিপ পাওয়া যাচ্ছে।প্রায় সব ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান বসে আছে।আমাদের অনেক মালিক ব্যাংক থেকে ঋণনিয়ে গাড়ি কিনেছেন। গাড়ি ভাড়া দিয়ে যেটাকা আয় হয়, তার একটা বড় অংশই ঋণপরিশোধে চলে যায় তাদের। বর্তমানঅবস্থায় সবচেয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন এসবট্রাক-কাভার্ড ভ্যান মালিক।
তবে করোনায় ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের সময়এখনো আসেনি বলে মনে করেন বাংলাদেশবাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেকসভাপতি ও সোহাগ পরিবহনের ব্যবস্থাপনাপরিচালক ফারুক তালুকদার। তিনি বণিকবার্তাকে বলেন, আমরা খুব খারাপ একটাসময় অতিবাহিত করছি। দেশে এমন কোনোমানুষ নেই, যারা করোনাভাইরাসের কারণেক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন না। শিল্প-কারখানা, করপোরেট, ধনী, গরিব এমনকি রাস্তারভিক্ষুকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আমরা কবে এখারাপ অবস্থা থেকে বের হতে পারব, তারকোনো নিশ্চয়তা নেই। আমি মনে করি, এমুহূর্তে লাভ-ক্ষতির হিসাব না টেনেভাইরাসটির কবল থেকে কীভাবে রক্ষাপাওয়া যায়, মানুষকে কীভাবে সম্ভাব্যক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করা যায়, সেদিকে নজর দেয়া উচিত।

Post a Comment